Monday, September 19, 2016

পাহাড়ে তেজ পাতার বাম্পার ফলন

খাগড়াছড়িতে মসলাজাতীয় পণ্য 'তেজপাতা' চাষাবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় চাষিরা নতুনভাবে তেজপাতার বাগান গড়ে তুলছে। আবার কিছু কিছু চাষি বাগান বিক্রি করে দেখেছে লাভের মুখ। এখানকার তেজপাতা চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো বহু পাহাড় খালি পড়ে আছে। পাহাড়ে মিশ্র ফল বাগানে উদ্যোগী কয়েকজন কৃষক সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে মসলার চাষ করছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আদা, হলুদ ছাড়া উল্লেখ করার মতো মসলার চাষাবাদ হচ্ছে না। তবুও কিছু মানুষ তেজপাতার বাগান গড়ে তুলেছে বাড়ির আঙিনা অথবা আশপাশের জঙ্গলে। এমনই একজন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ৯ মাইল এলাকার প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা। তিনি দুই বছর আগে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। এবার তিনি সফল হলেন তেজপাতা বাগান করে। ১০ বছর আগে মাত্র ৫০০ টাকার চারা লাগিয়ে এখন তিনি লাখোপতি। এই মৌসুমে ৯২টি গাছের তেজপাতা বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকায়।
উৎপাদিত মসলা পাতা কিনে বাজারজাতের মাধ্যমেও অনেকে জীবিকার পথ বেছে নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বাগান কিনে বাগানেই তেজপাতা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে থাকে। এতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশিক্ষিত শ্রমিকরা পরিচর্যার মাধ্যমে তেজপাতা সংগ্রহ করায় পরের বছর আরো ভালোভাবে পাতা গজিয়ে থাকে।
জেলা সদরের শালবন এলাকার বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিনের প্রধান ব্যবসাই হলো তেজপাতা ক্রয়-বিক্রয়। তিনি জানিয়েছেন, এই মৌসুমে তিনি চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরাসহ আরো তিনজনের তেজপাতার বাগান কিনেছেন। এগুলো তাঁর কাছ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ কয়েকটি জেলার বড় ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান।
শুধু চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরাই নন; জেলায় অন্তত আরো ১৫টি এমন তেজপাতা বাগান রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিবছরই লাখ লাখ টাকার তেজপাতা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকরা। বিশেষ করে লাভ দেখে ইদানীং আরো অনেকেই তেজপাতা বাগান করতে আগ্রহী হয়েছে। ৯ মাইলের সাবেক এক মেম্বার গত বছরই তেজপাতার বাগান করেছেন। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের পাশে প্রায় এক একর জমির ওপর তিনি প্রায় ৫০০টি গাছ লাগিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যেই বাগানের পাতা বিক্রি করতে পারবেন। একইভাবে জেলা সদরের বিশিষ্ট ঠিকাদার যত্নশ্বর ত্রিপুরা অন্তত তিন একর পাহাড়জুড়ে এবার প্রথম তেজপাতাগাছের আবাদ করেন। ইতিমধ্যে এক হাজার ৫০০ গাছ লাগিয়েছেন। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ আবুল কাসেম জানান, মসলাজাতীয় পণ্য হিসেবে তেজপাতার গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি কসমেটিকস ও ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল কাঁচামাল হিসেবেও এটি ব্যবহারের কারণে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাবাদি জমিতে তেজপাতা, দারুচিনিসহ মসলাজাতীয় ফসল আবাদ করা গেলে বাংলাদেশের মসলার চাহিদার অনেক ভাগই পূরণ করা সম্ভব। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি বাবদ কোটি কোটি টাকার সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ (২০১৪)

No comments:

Post a Comment