Friday, October 16, 2020

সিকিম ভারতের একটি সৌন্দর্যে মহারানী- ১


আমাদের সবার একটা স্বপ্ন ছিল বরফ দেখতে যাবো। এখন শুধু বরফ দেখতে যাবো বললে তো হবে না। আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়। কোথায় যাবো, আর কিভাবে যাবো? আগে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবার সিকিম যাবো। এভাবে আমরা পরিকল্পনা করার পর । সেই অনুযায়ী আমরা গতবছর ডিসেম্বের ১৫/১২/২০১৯ ইং তারিখে সিকিম ভ্রমন করার বাসে টিকেট করি। বুড়িমারি স্টল বন্দর দিয়ে। কারন, সিকিমে কেউ যদি যেতে চান তাহলে অবশ্যই বুড়িমারি স্টল বন্দর দিয়ে ভিসা করবেন এবং এটা দিয়ে সহজে ভারতে যাওয়া যায়। লোকজন খুবি কম। সহজে ইমিগ্রেশন সম্পর্ন করা যায়।

ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত শ্যামলী বাস সার্ভিস এবং শ্যামলী এন্ড আর দুটি এসি বাস পাওয়া যায়। আপনারা যেকোন কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে আগে ভাগে করে রাখবেন। 

আমরা রাত্রে শিলিগুড়ি বাসেই উঠি।  তবে এর আগে আপনাকে কোন ট্যুর এন্ড ট্রাবেল এজেন্ডকে ঠিক করে রাখতে হবে। তা না হলে আপনাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। আমরা আগে ভাগে সব কিছু ঠিকঠাক করেছিলাম। কারন আমাদের  এক ফ্রেন্ড তখন শিলিগুড়িতে পড়ালেখা করছিল তার মাধ্যমে। 

আমাদের ট্যুরটা ছিল দার্জিলিংসহ। প্রথম দিন দার্জিলিং ঘুরে দেখলাম। তারপরে দিন ভোর ৪ টা দিকে সুর্য উদয় দেখার জন্য টাইগার হিল গেলাম। আপনাদের জ্ঞাতার্থে টাইগার হিল যাওয়ার সময় অবশ্যই গরম কাপড় নিয়ে যাবেন না হলে ঠান্ডায় মারা যাবেন। খুবি খুবি ঠান্ডা।

টাইগার হিল সূর্য উদয় দেখার পর হোটেলে নাস্তা করলাম। নাস্তা করার পর হোটেল ছেড়ে দিলাম। তারপর দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানা এবং HMI(Himalayan Mountaineering Institute) ঘুরলাম। দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় হরেক রকমের জীবজন্তু আছে। আপনারা কেউ দার্জিলিং ঘুরতে যান তাহলে অবশ্যই এই চিড়িয়াখানা ঘুরতে যাবেন। 

এরপর দেখা শেষ হওয়ার পর আমরা রওনা হলাম। সিকিমের গ্যাংটকে উদ্দেশ্যে। গাড়ি চলতেছে আর চলতেছে। পাহাড়ি আকা-বাকা রাস্তা। আর গাড়ির ভিতরে মজার মজার সব গান। সত্যিই এক রোমাঞ্চিত ভ্রমন ছিল। মাঝপথে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। খাবার খাওয়ার পর পড়ন্ত বিকেলে স্বপ্নের সিকিমে সীমানায় পৌছলাম। ওখান থেকে আমার(Inner line Permit) ইনার লাইন পারমিট নিলাম। যেই পারমিট ছাড়া আপনি সিকিমে ডুকতে পারবেন না আর বের হতে পারবেন না। অবশ্যই এই পারমিট টা নিতে হবে। 

ইনার লাইন পারমিট নেওয়ার পর রাত ৮ টা দিকে আমরা পৌছালাম সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে । আমাদের আগেভাগে বুকিং করা হোটেলে। রাত্রে খাওয়ার পর আমরা সবাই তাড়া তাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। কারন, সকাল হলে আবার বের হয়ে যেতে হবে। 

সকাল হলো। নাস্তা করার পর আমরা দক্ষিন সিকিম ঘুরতে বের হলাম। দক্ষিন সিকিমও ট্যুরিষ্টদের জন্য একটি সুন্দর জায়গা। এখানে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১. জারধাম ২. বুদ্ধপার্ক সহ উল্লেখযোগ্য। 



ঘুরতে ঘুরতে রাত হয়ে গেলো। আমার গ্যাংটকে উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। কিন্তু এই যাত্রা মিনিমাম ৪ ঘন্টার উপরে। রাত ১০ টা বাজে আবার হেটেলে ইন করলাম। রাত্রের খাবার খেয়ে তাড়া তাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। কারন পরের দিন আমাদের লালিত স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে । নিচে একটি ভিডিও লিংক দিলাম। আপনারা ভিডিওটি ক্লিক করলে বুঝতে পারবেন। কতটা রোমাঞ্চকর ছিল এই ভ্রমন।

চলমনা থাকবে.........


Tuesday, October 16, 2018

অল্প খরচে দার্জিলিং ঘুরে আসুন

সামনে শীতের মৌসুম। এই শীতের মৌসমে কার না বেড়াতে ভালো লাগে না। যারা ভ্রমন পিপাসু তারা তো ঘুরতে বের হবেই। কারন, শীতের সময় ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজ সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। তাই চাই অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে। সেটা হোক দেশে কিংবা বিদেশে। 

সৌন্দর্যে ভরা দার্জিলিং। সুত্র- ইন্টারনেট
 
তবে অনেকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হয় না। কারন, বিদেশ মানে সেই রকম খরচ। কিন্তু পাশের দেশ ভারতে অল্প খরচে অনেক জায়গায় ভ্রমন করা যায়। 

আজ তাদের জন্য দার্জিলিং কিভাবে অল্প খরচে ঘুরে আসা যায় তার বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। 
আপনারা সবাই অবগত আছেন। দার্জিলিং মানে ঠান্ডা জায়গায় ও মনোরম পরিবেশ। যদি কেউ ইন্ডিয়াতে আছে তাহলে অবশ্যই দার্জিলিং একবার ঘুরে আসবেই। কারন, এতটা নয়নাভিরাম যা বলার বাহিরে।

আখাউরা স্থল বন্দর  সুত্র- ইন্টারনেট
আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে চলে আসতে চান খুবি সোজা এবং কম খরচে। ট্রানজিট পয়েন্ট অনেক গুলো আছে। যেমন- আখাউরা, হরিদাশ পুরসহ বিভিন্ন জায়গায় দিয়ে ইন্ডিয়া ডুকা যাচ্ছে এখন। 
আপনি যদি ব্রাহ্মনবাড়িয়া দিয়ে আছেন। তাহলে আপনাকে ঢাকা থেকে টিকেট কেটে আখাউরা হয়ে ত্রিপুরায় ডুকবেন। আখাউরার পাশেয় ত্রিপুরার বিমান বন্দর সেখান থেকে ডোমিষ্টিক ফ্লাইট করে বাঘডোগরা (শিলিগুড়ি)  বিমান বন্দরে নামবেন। নেমে সেখান থেকে সোজা চলে আসবেন দার্জিলিং মোড়ে সেখানে অনেক অনেক ছোট গাড়ি দাড়িয়ে থাকে দার্জিলিং যাওয়ার জন্য। আাপনি চাইলে নিজে একটা গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। আর চাইলে শেয়ারেও নিতে পারেন। শিলিগুড়ি থেকে ৩/৪ ঘন্টার পথ দার্জিলিংয়ের রাস্তা। সোজা গিয়ে হোটেলে গিয়ে ঠিক করতে পারবেন। অনায়াসে অল্প খরচে দার্জিলিং ঘুরে চলে আসতে পারবেন।

শিয়ালদহ রেল স্টেশন সুত্র- ইন্টারনেট
আপনি যদি বেনাপোল হয়ে ডুকেন। অটো করে চলে আসবেন বনগাও স্টেশন দিকে ভাড়া জন প্রতি ২০/২৫ টাক। ট্রেন স্টেশনে গিয়ে ২০  ‍রুপি দিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে আসবেন। আপনার যদি ভাগ্য ভালো থাকে তাহলে আপনি ট্রেনের টিকেট পেতে পারেন। যদি শ্লিপার ক্লাস হয় তাহলে জন প্রতি ভাড়া ৩২০ রুপি করে নিতে হবে। আর জেনারেলে চলে আসলে এর থেকে কম খরচে আসা যায়।

ট্রেন দুইটা আছে মাত্র একটা কাঞ্চন কন্যা এক্মপ্রেস আরেকটা দার্জিলিং ম্যাল। কাঞ্চন কন্যা ছাড়ে রাত ৮.৩০ মিনিটে আর দার্জলিং মেইল ছাড়ে রাত ১০ টায়। সোজা চলে আসবেন শিলিগুড়ি জংশনে। শিলিগুড়ি জংশনে নেমে কিছু দুর হেটে আসলে মেইন রোডে ছোট২ গাড়ি দাড়িয়ে আছে দার্জিলিং যাওয়ার জন্য। এখান থেকে বাড়া করে নিতে পারবেন। ২৫০০/৩০০০ রুপি মত নিতে পারে ভাড়া।

 আর আপনি যদি বাসে আসতে চান তাহলে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ধর্মতলায় সেখানে অনেক গুলো কোম্পানির বাস পাওয়া যায়।শিলিগুড়ি পর্যন্ত ভাড়া ১০০০/২৫০০ ভিতরে পাওয়া যায়।

আপনাদের ভ্রমন সুন্দর হোক এই কামনা থাকল।

Saturday, March 3, 2018

কলকাতা ভ্রমণের নতুন অভিজ্ঞতা

ভ্রমনের তারিখ ছিল ৯/০২/২০১৮ ইং রোজ শুক্রবার। এই দিনটি আমার জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ন দিন। আমার স্মৃতি থেকে কোন দিন মুছে যাবে না।। তার কারন, আমার জীবনে প্রথম আমি কোথাও দেশের বাহিরে যাচ্ছি। আরও প্রথম আমার বিমানে ভ্রমন।
চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত বিমান বন্দরে বডিং পাস করার সময়।


এভাবে শুরু হয়েছিল আমাদের ভ্রমনের দিনটা আমরা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করেছিলাম। আমাদের ফ্লাইট ছিল ২ টাই। তাই আমাদের ২ ঘন্টার আগে চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছাতে হবে। তার কারন, সেখানে বডিং পাস তারপর ইমেগ্রেশন সহ অনেক কিছু কাজ আমাদের করতে হবে। এবং সেখানে অনেক সময় লাগে। তাই আগে ভাগে বিমান বন্দরে পৌছাতে হলো।

বিমান বন্দরে গিয়ে দেখি আমাদের পরিচিত অনেক জন কলকাতায় যাচ্ছে। তারা কেউ চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে আবার কেউ ভ্রমন করতে আর কেউ আমরা যে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে যাচ্ছি সেখানেও তারা যাচ্ছে। সবার একি ফ্লাইট।


মন একটু উত্তেজিত লাগছিল তাই ফেসবুকে স্ট্যাটাশ দিয়েছিল।

আমরা সবাই বিমানে উঠলাম। বিমানে উঠে মনটা কেমন জানি করছে। সব কিছুই আমার জন্য নতুন তাই ভয়, উৎকন্ঠা, উত্তেজিত ও আবেগ এক সাথে কাজ করছে।

ফ্লাইটে ভিতরে আপনার করনীয় কি কি?
যা হোক বিমান উদ্দয়ন করল। আমরা উড়তে শুরু করলাম। তবে বিমানে ডুকার পর সীট খুজার জন্য বিমান বালারা অনেক হেল্প করেছে। তাদের সহায়তাই আমরা আমাদের সীট খুজে পেয়ে বসলাম। একে একে সবার বসার শেষ হয়ে গেলে। তারা সবাইকে সীট ব্যাল্ট বাদার জন্য অনুরোধ করে। সেই সাথে তারা সেখানে উপস্থাপন করে কিভাবে সীট ব্যাল্ট বাদতে হয়। সেটা দেখানোর পরে আবার প্রত্যেক যাত্রীকে দেখে নেই যে তারা ঠিক মত সীট ব্যাল্ট বেধেছে কি না। 

যাত্রা পথে নাস্তা









তারপর শুরু হয় যাত্রা। যাত্রার পথে তারা অনেক আন্তরিকতার সহিত নাস্তা, পানী, জুস বিতরন করেন। আর আন্তরিকতার সহিত সেগুলো নিয়ে যায়। আপনি মন চাইলে সেগুলো খেতে পারেন না চাইলে খেতে হবে না। 
বিমানে উড়ার সময়


আমদের কলকাতা পৌছার জন্য সময় লেগেছিল মাত্র ৪৫ মিনিট। কখন যে ৪৫ মিনিট শেষ হয়ে যায় হিসাব থাকে না। 

ইমেগ্রেশন করার পর









কলকাতা আন্তর্জাতিক নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু বিমান বন্দরে ল্যান্ড করার পর আমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয় যে সেখানকার স্থানীয় সময় ২.৩০ মিনিট এবং তাপমাত্রা প্রায় ৩০-৪০ ডিগ্রি। যেখানে আমরা বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলাম। শীতের কাপর পড়ে কিন্তু এখানে গিয়ে দেখলাম সব কিছু অন্য দিকে। 
যা হোক আমরা ল্যান্ড করলাম। ল্যান্ড করার পর আমরা সোজা ইমেগ্রেশন করতে গেলাম। সেখান থেকে সব কিছু শেষ করতে প্রায় ঘন্টা দেড়েক লেগেছিল। 

ল্যান্ড করার পর

সব কিছু শেষ করে আমরা বিমান বন্দর থেকে বের হলাম। আমাদের জন্য আগে থেকে গাড়ি রাখা হয়েছে। তাই গাড়িতে চেপে বসলাম। চলতে চলতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।

যেহেতু নতুন কলকাতা শহর। তাই আমার চোখ চারদিকে সব কিছু দেখছি। তাদের ট্রাফিক দেখেছি। অনেক সুন্দর লেগেছে। আর রাস্তাগুলো প্রচুর বড় বড়। আর গাড়ি গুলো সুন্দর ভাবে চলছে। পৌছতে পৌছতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। তারপর আমাদেরকে জাক জমক ভাবে অভ্যার্তনা করা হয় 
ইমেগ্রেশন যাওয়ার পথে

Friday, June 30, 2017

আপনি আউটসোর্সিং নিয়ে কাজ করতে চান?


তাহলে আসুন আপনার কি কি লাগবে। প্রথমত আপনার ঘরে বিদ্যুত লাইন থাকতে হবে। তারপর আপনার কাছে একটি ডেস্কটপ বা ল্যাপটক কম্পিউটার লাগবে। সেই সাথে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য একটি মডেম বা বিটিসিএল বা অন্য কোন কোম্পানির ব্রড বেন্ড লাইন। কারন, আপনি যখন  আউট সোর্সিং নিয়ে কাজ করবেন তখন নিরবিচ্ছিন্ন নেটে সংযোগ লাগবে। কারন, কোন কাজে ক্লাইন্ট আপনার সাথে যখন তখন সংযোগ করতে চাইবে। তখন সংযোগ না পাই আপনি কাজ পাবেন না। তাই নিরবিচ্ছিন্ন নেট অবশ্যই দরকার।

এবার আপনি  আউটসোর্সিং কি বষয় নিয়ে কাজ করবেন। এটা আগে ঠিক করতে হবে। অনেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে, ডেবেলপার, ব্লগার, ওয়েব ডিজাইন, সিও সহ নানা বিধ কাজ করা হয়।

তাই আপনাকে কিছু বেসিক জিনিস গুলো আগে শিখতে হবে। তা না হলে আপনাকে অনেক কিছু হারাতে হবে। আপনি একদিকে টাকা হারাবেন আরেক দিকে আপনার সময় নষ্ট হয়ে যাবে।

আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভিডিওতে দেখতে পাই অতি সহজে ইনকাম করা যাচ্ছে। আসলে সেই গুলো সব কিছু মিথ্যা। আপনি যখন করবেন তখন প্রতি মিনিট, প্রতি ঘন্টা, প্রতিদিন নানা সমস্যায় পড়বেন। আাপনার যদি আগে ভাগে কোন আইডিয়া থাকে তাহলে আপনাকে যে কেউ বলে দিলে আপনি তা ক্যাপচার করতে পারবেন। তা না হলে আপনি আগের মত থাকবেন। 

আবার অনেকে বলে, ইংরেজী দক্ষতা এত প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনি যেই সব ওয়েবসাইটগুলোতে কাজ করবেন সব গুলো বিদেশীদের সাইট। তাই তাদের সাথে আপনার যোগাযোগ করার মাধ্যম হচ্ছে ইংলিশ টাই। তাই অবশ্যই ইংলিশ দক্ষতা প্রয়োজন এবং সেই সাথে ধৈর্য পরীক্ষা।

আর যারা আউটসোর্সিং ডুকার পরপরই ইনকামের কথা চিন্তা করে তাহলে তাদেরকে বলবো। ভাই, আপনাদের জন্য এই আউটসোর্সিং জিনিসটা নই।

Monday, September 19, 2016

বারোমাসি শজনের উৎপাদন

ফাল্গুন-চৈত্র মাসের মওসুমি সবজি শজনের ডাঁটা এখন যশোরে বারো মাস পাওয়া যাবে। যশোর হর্টিকালচার সেন্টার বারোমাসি এই শজনের চারা উৎপাদন করে বিতরণ করছে। বিভিন্ন এলাকায় রোপণকৃত ওই সব চারায় ডাঁটা ধরতে শুরু করেছে। যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, বারোমাসি শজনেগাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চারা লাগানোর ছয় মাসেই গাছে ডাঁটা ধরে এবং সারা বছরই এ থেকে ডাঁটা পাওয়া যায়। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে এক হাজার ৬০০টি পর্যন্ত শজনেডাঁটা ফলে। সাধারণত ২০টি ডাঁটায় এক কেজি হয়। এ হিসাবে একটি গাছে দুই মণ ডাঁটা ধরে। ৮০ টাকা কেজি হিসেবে এর দাম ছয় হাজার ৪০০ টাকা। বাণিজ্যিকভাবে কেউ এর চাষ করলে তিনি এক বিঘায় ৪০টি গাছ লাগাতে পারবেন। এই গাছ থেকে পাওয়া যাবে বছরে দুই লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আমিনুল ইসলাম বলেন, খুলনা বিভাগে যশোর হর্টিকালচার সেন্টার এ বছরই প্রথম এই সজনের চারা উৎপাদন করেছে।
প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যে ইতোমধ্যে প্রায় সাত হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে। কিছু শিাপ্রতিষ্ঠানের শিার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বিনামূল্যে। যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের আবদুর রহমান লাগিয়েছেন ১০টি চারা। তার সব গাছে পূর্ণভাবে ডাঁটা ধরা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বিনাযতেœ সম্পূর্ণ লাভজনক হলো শজনের চাষ। একবার লাগালেই হলো। গরু-ছাগলের উপদ্রব ঠেকানো ছাড়া সার ও কীটনাশক কিছুই ব্যবহারের দরকার নেই। সারা বছর ডাঁটা ধরবে। সব মানুষের প্রিয় সবজি হলেও দেশে এর আবাদে কারো তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায় এটি বিলুপ্তির পথে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র গবেষণা চালিয়ে এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি বারোমাসি জাত উদ্ভাবনে সফল হয়েছে।
এ ফর্মুলার ভিত্তিতে যশোর হর্টিকালচার সেন্টারে চারা উৎপাদন ও বিতরণ শুরু হয়েছে। খাদ্যমান ছাড়াও শজনের ওষুধি গুণ অনেক। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বাতজ্বর চিকিৎসায় শজনে ব্যবহৃত হয়। পোকামাকড়ের কামড়ে অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে এর পাতার রস। হৃদরোগ, রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি, শ্বেতী, টাইফয়েড, প্যারালাইসিস, লিভার, ত ও চোখের রোগ প্রতিরোধ করে। শজনের বাকল, শেকড়, ফুল, পাতা, বীজ এমনকি এর আঠাতেও ওষুধিগুণ আছে। যশোর হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে,বসতবাড়ির আঙিনা ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি েেত এই শজনে চাষ করা যাবে। বিদেশ থেকে আনা‘পিকেএম-২’ জাতের এই শজনের চারা কৃষি কাবের সদস্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত এলাকার কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ শুরু হয়েছে। যশোর সেন্টারে বর্তমানে দুই হাজার চারা আছে। আরো পাঁচ হাজার চারা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

১০টি কাযর্করী ওসহজ মার্কেটিং টিপস্


১। আপনার কার্ড বা ব্রাউচার বিভিন্ন কফি শপ, রেস্টুরেন্ট, বইয়ের দোকান, ব্যবসায়ী, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ইত্যাদিতে সরবরাহ করুন। এই কাজের জন্য ১ বা ২ জন কর্মচারী নিয়োগ করতে পারেন।
২। যেকোন মেলা, অফার বা কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করুন, যাতে লোকজন আকৃষ্ট হয়। বিশিষ্ট লোকদের (আপনার ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত) দাওয়াত দিন।

৩। নেটওয়ার্কিং করুন। সুযোগ পেলেই আপনার কাজে দেবে এরকম ট্রেনিং, মিটিং বা প্রেসে অংশগ্রহন করুন। মেলা পরিদর্শন করুন। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলুন, সখ্যতা গড়ে তুলুন।

৪। আপনার বিক্রয় বার্তা, কোম্পানীর নাম সব জায়গায় ছড়িয়ে দিন। হতে পারে লোগো, গাড়ি, শার্ট, ট্যাগ, বিল্ডিং, ইনভয়েস, খাম, রিসিপ্ট ইত্যাদি।

৫। সেবা বা পন্যের ট্রেডিং প্রোমেশনের জন্য অন্য সব ব্যবসায়ীদের আহবান করুন, পরিচিত হোন। আপনার পন্যের সাথে মার্কেটিং এ্যাডভার্টাইজিং, প্রোমেশন, অফার, প্রিন্ট, চিন্হ, পন্য বা সেবা বিনামূল্যে অফার করুন।

৬। আপনার ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত অন্য সব ব্যবসায়ীদের নিকট আপনার ব্যবসা পরিচিত করে তুলুন। এক্ষেত্রে পত্রিকা, চিঠি, মেইল বা সরাসরি কথা বলা যায়।

৭। আপনার ওয়েবসাইট সকল স্থানীয় ডাইরেক্টরীতে লিপিবদ্ধ আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

৮। আপনার ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত এরকম সকল ওয়েবসাইটকে আপনি লিংক বিনিময়ের অফার করুন। সুনির্দিষ্ট ও কাজের ভিজিটর পেতে এটা খুব ভালো।

৯। প্রত্যেকের সাথে বারংবার আলাপ করুন, কিভাবে এক সাথে ব্যবসা পরিচালনা বা ব্যবসা উন্নয়ণ করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করুন। একে অন্যের সাহায্য নিন।

১০। সবসময় নিজের মনের মত মার্কেটিং বা এ্যাডভার্টাইজিং করবেন না। নিজের ভাবুন একজন ক্রেতা হিসেবে। ক্রেতা হিসেবে আপনি কি কি সুবিধা পেতে চান এ ব্যাপারে চিন্তা করে বিজ্ঞাপন দিন।

পাহাড়ে তেজ পাতার বাম্পার ফলন

খাগড়াছড়িতে মসলাজাতীয় পণ্য 'তেজপাতা' চাষাবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় চাষিরা নতুনভাবে তেজপাতার বাগান গড়ে তুলছে। আবার কিছু কিছু চাষি বাগান বিক্রি করে দেখেছে লাভের মুখ। এখানকার তেজপাতা চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো বহু পাহাড় খালি পড়ে আছে। পাহাড়ে মিশ্র ফল বাগানে উদ্যোগী কয়েকজন কৃষক সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে মসলার চাষ করছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আদা, হলুদ ছাড়া উল্লেখ করার মতো মসলার চাষাবাদ হচ্ছে না। তবুও কিছু মানুষ তেজপাতার বাগান গড়ে তুলেছে বাড়ির আঙিনা অথবা আশপাশের জঙ্গলে। এমনই একজন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ৯ মাইল এলাকার প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা। তিনি দুই বছর আগে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। এবার তিনি সফল হলেন তেজপাতা বাগান করে। ১০ বছর আগে মাত্র ৫০০ টাকার চারা লাগিয়ে এখন তিনি লাখোপতি। এই মৌসুমে ৯২টি গাছের তেজপাতা বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকায়।
উৎপাদিত মসলা পাতা কিনে বাজারজাতের মাধ্যমেও অনেকে জীবিকার পথ বেছে নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বাগান কিনে বাগানেই তেজপাতা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে থাকে। এতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশিক্ষিত শ্রমিকরা পরিচর্যার মাধ্যমে তেজপাতা সংগ্রহ করায় পরের বছর আরো ভালোভাবে পাতা গজিয়ে থাকে।
জেলা সদরের শালবন এলাকার বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিনের প্রধান ব্যবসাই হলো তেজপাতা ক্রয়-বিক্রয়। তিনি জানিয়েছেন, এই মৌসুমে তিনি চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরাসহ আরো তিনজনের তেজপাতার বাগান কিনেছেন। এগুলো তাঁর কাছ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ কয়েকটি জেলার বড় ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান।
শুধু চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরাই নন; জেলায় অন্তত আরো ১৫টি এমন তেজপাতা বাগান রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিবছরই লাখ লাখ টাকার তেজপাতা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকরা। বিশেষ করে লাভ দেখে ইদানীং আরো অনেকেই তেজপাতা বাগান করতে আগ্রহী হয়েছে। ৯ মাইলের সাবেক এক মেম্বার গত বছরই তেজপাতার বাগান করেছেন। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের পাশে প্রায় এক একর জমির ওপর তিনি প্রায় ৫০০টি গাছ লাগিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যেই বাগানের পাতা বিক্রি করতে পারবেন। একইভাবে জেলা সদরের বিশিষ্ট ঠিকাদার যত্নশ্বর ত্রিপুরা অন্তত তিন একর পাহাড়জুড়ে এবার প্রথম তেজপাতাগাছের আবাদ করেন। ইতিমধ্যে এক হাজার ৫০০ গাছ লাগিয়েছেন। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ আবুল কাসেম জানান, মসলাজাতীয় পণ্য হিসেবে তেজপাতার গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি কসমেটিকস ও ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল কাঁচামাল হিসেবেও এটি ব্যবহারের কারণে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাবাদি জমিতে তেজপাতা, দারুচিনিসহ মসলাজাতীয় ফসল আবাদ করা গেলে বাংলাদেশের মসলার চাহিদার অনেক ভাগই পূরণ করা সম্ভব। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি বাবদ কোটি কোটি টাকার সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ (২০১৪)

চাকরিতো কারাবাস, উদ্যোক্তার মুক্ত আকাশ চাকরি ও কারাবাস/উদ্যোক্তা ও আকাশ

জীবন-যাপনের জন্য আমাদেরকে কোন না কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এখন প্রশ্ন আমরা কোন অর্থনৈতিক জীবন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাব? আমরা কি চাকরি করব? প্রশ্ন করি,আমরা চাকরি করি কেন ? সহজ একটিই উত্তর আর্থিক নিরাপত্তার কারণে। যেহেতু অর্থই পারিবারিক-সামাজিক-রাজনৈতিক সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে সুতরাং কেন সেই অর্থ উপার্জনে চাকরি নয় ? চাকরি ছাড়াও নিজের উদ্যোগে ব্যবসা করে যারা অর্থ উপার্জন করছে তাদের সাথে একজন চাকরিজীবির ভিন্নতা কোথায় ? একটা ছোট্ট উদাহরণ টেনে ব্যাপারটা কিছুটা পরিষ্কার করা যেতে পারে। পাখি খাঁচায় এবং আকাশে দুই জায়গাতেই নিরাপদ। কিন্তু পাখি তার স্বভাবগুনেই আকাশমুখী। মানুষ কি আকাশমুখী নয় ? মানুষ কি জন্ম মাত্রই স্বাধীনতা চায় না ? উত্তরে বিরোধিতা করার কোন সুযোগ নেই, চায়। তাহলে চাকরি কি একজন মানুষকে নিরাপত্তা দিচ্ছে খাঁচায় বন্দি রেখে ? শুনতে খারাপ লাগলেও আসলে এটাই সত্য। মানুষ তাহলে কেন মেনে নিচ্ছে এই বন্দিত্ব ? এসব নিয়ে আরো বিস্তর আলোচনা করা যাক…
নির্ভরশীলতা : নির্ভরশীলতা একটি জটিল রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কিছু করতে চায় না এবং পরজীবি থাকতে ভালোবাসে। পরের দাসত্ব মেনে নিয়ে অধীন থাকতে চায়। অর্থাৎ সে আসলে অন্যের প্রয়োজনে বেঁচে থাকে, অন্যের জীবনে বেঁচে থাকে, নিজের জীবনে বা নিজের প্রয়োজনে তার চাহিদা থাকেনা। এভাবে নিজেকে বঞ্চিত করে আপনি কতটুকু ভালো থাকতে পারেন ?
অনভিজ্ঞতাকে দূবর্লতা মনে করা : একজন মানুষ উদ্যোগি হয়ে কোন ব্যবসায় নামতে চাইলে নিজেকে অনভিজ্ঞ মনে করে সাহসিকতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়। এবং মেনে নেয় চাকরি জীবন। কিন্তু পথে না নেমেই কি কেউ পথ থেকে সঞ্চয় করতে পেরেছে? গৃহপালিত জীবন ব্যবস্থা : আমাদের পরিবার-সমাজ অনেক সময় পোষ্যতাকে প্রোমোট করে। তাদের চাওয়া পাওয়াই থাকে তুমি বড় হয়ে একজন চমৎকার পোষ্য হবে এবং আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে। আমাদের চিন্তা-চেতনাকে তারা তাদের আঁচলের চাবির মতো বেঁধে রাখতে চায়। পরিবার-সমাজের এইসব দারিদ্রতা-সংকীর্ণবোধ ভেঙ্গে আমরা কি দেয়ালের ওপাশে যাব না ? দায়িত্বকে চাপ
মনে করা : নিজে উদ্যোগি হয়ে কোন ব্যবসা শুরু করলে তাকে ঘিরে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং তার মাধ্যমে তাদের জীবন জীবিকা নিশ্চিত হয়। অনেকে এই দায়িত্বকে চাপ মনে করেন এবং চাকরি জীবন মেনে নেন। আর এভাবেই কমে আসছে কর্মসংস্থান। দেশে এখন তাই বেকার বৃদ্ধির মৌসুম। আমরা কি আমাদের আর আমাদের চারপাশের মানুষের জন্য কিছু করব না ?
ঝুঁকি মুক্ত থাকা : এটা সত্য যে চাকরি মাস অন্তর নির্দিষ্ট অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং একজন চাকরিজীবি নিজেকে ঝুঁকি মুক্ত মনে করেন। আবার এটাও সত্য সে অর্থ নির্দিষ্ট এবং সব সময় যথেষ্ট নয়। স্বপ্নকে বড় করে দেখুন- স্টিভ জবস্ যেটা বলতেন। আমরা কি চাকরিকে ঝুঁকি মুক্ত স্বীকার করে নির্দিষ্ট ফ্রেমে বাঁধা জীবন মেনে নেব ?
প্রভুত্ব স্বীকার করা : কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে চাকরি করতে গেলে আপনাকে হয়তো বার বার বলতে হবে ‘স্যরি বস’। এই ‘বস’ শব্দটি ব্রিটিশ কালচার থেকে এসেছে যার অর্থ প্রভু। তারা আমাদের এই উপমহাদেশে দুইশ বছরের বেশী প্রভুত্ব করেছে। আমরা আর কতদিন এই প্রভুত্বের কালচারে নিজেদেরকে বশীভূত রাখব ?
কাপুরুষতা : অন্যের বেঁধে দেয়া স্বপ্নে আপনি বসবাস করেন। অন্যের মতো করে আপনি মুখস্থ বলেন আপনার জীবন পাঠ। অথচ নিজের মতো করে স্বপ্ন দেখতে নিজের মতো করে জীবন পাঠ করার সাহস আপনার নেই। রোজ দিন একই সময় অফিস যাওয়া, একই সময় ফেরা, সন্তান উৎপাদন,বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া এইসব নিরুত্তাপ দিন কেটে যায় অনেকেরই। কি লাভ ? আপনারও স্বপ্ন ছিল; গোপনে তাকে বেড়ে উঠতে দেন নি। আপনি কি হতে পারতেন না সেই সাহসি মানুষের নাম? এইসব প্রশ্নে এখন আর নিরুত্তর-নিরুত্তাপ থাকার সময় নেই। আর চাকরি নয়। নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বাধীন-স্বপ্নিল জীবনের পথ প্রসারিত হয়ে আছে আমাদের জন্য।
সংগ্রহীতঃ উদ্যোগতার খোজে

নিজেই স্বাবলম্বী হোন

রাজধানীর ধানমন্ডি ৭/এ এর একটি গলিতে ‘ড্রিম ভ্যান’- এ করে বিভিন্ন রকম লেডিস ও জেন্টস পণ্য ফেরি করে বিক্রি করছেন এক যুবক। দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম বলে প্রথম দর্শনে তাকে ফেরিওয়ালা মনে হবে না কারোরই। হাতে দামি ক্যামেরা, কানে হেডফোন, পায়ে দামি জুতা, পরনে জিন্সের প্যান্ট ও সাদা পাঞ্জাবী দেয় আরও আভিজাত্যের পরিচয়।
কাছে গিয়ে জানা গেল পরিচয়, নাম তাজুল ইসলাম (২৯)। পরিবার ও বন্ধুরা ডাকেন লিখন নামে। ফরিদপুর শহরে জন্ম। এখন থাকেন মোহাম্মদপুরে।
২০০৯ সালে মা রওশন আরা বেগম মারা যাওয়ার পর একা হয়ে পড়েন তিনি। তার আগে নিজের দুই বছর বয়সেই বাবা নুরুল ইসলামকে হারান লিখন। পরিবারের অন্য সদস্যরা সবাই উচ্চবিত্ত শ্রেণির।
লিখন রাজধানীর একটি কলেজে ডিপ্লোমা পড়া অবস্থায় ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান। ৫ বছর পরে দেশে ফেরেন। এরপর উদ্বোধন করেন ফেরি করার বাহন ‘ড্রিম ভ্যান’ এর।
দুই মাস ধরে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কলেজ ব্যাগ, মানিব্যাগ, বেল্ট, সানগ্লাস, স্যান্ডেল, টি-শার্ট ও ক্যাপ বিক্রি করছেন। আছে দামি ও অভিজাত ক্যাকটাসও। এই ভ্যান কিনতে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। আর পণ্য রয়েছে ১৫ হাজার টাকার মতো।
লিখন জানান, এই ৩০ হাজার টাকা পুঁজির ব্যবসায় প্রতিদিনের খরচ চলে যায় ‍তার। শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়েও তিনি জীবিকার্জনের জন্য এই কাজকে বেছে নিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি।
লিখন বলছিলেন, আমার কাছে কোনো কাজই ছোট নয়। সব কাজই মহান। কাজ সবসময় কাজই। কাজের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। কাজকে নানা শ্রেণি ও খাতে ভাগ করার জন্যই আজকে বেকারত্ব বাড়ছে।
তিনি বলেন, আমার অনেক শিক্ষিত ভাইয়েরা পছন্দ মতো কাজ না পেয়ে বেঁচে থাকার জন্যই অসৎ পথ বেছে নেন। কিন্তু আমাদের উচিত সব কাজকে সমান চোখে দেখা। আমি মনে করি মন্ত্রী ও বাদাম বিক্রেতার কাজের মধ্যে কোনো তফাৎ থাকা উচিত নয়।
‘বেকার যুবক ভাইদের লাজ-লজ্জা ভেঙে দেওয়ার জন্যই আমি এই কাজ বেছে নিয়েছি। সামনে ইচ্ছে আছে লুঙ্গি পরে রিকশা চালাবো। এরপরই ফেরি করে বাদাম বিক্রি শুরু করবো।’
কোরিয়ায় উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঢাকা শহরে দু’টি প্লট কিনেছেন। এরমধ্যে একটি আবার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা রিভার ভিউতে। কক্সবাজারের ওশান গার্লের অষ্টম তলায় কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটও আছে তার। বাবা মারা যাওয়ার পর নানা বাড়িতেই মামা-খালাদের আদরে বড় হন লিখন। পরিবারের সবাই উচ্চবিত্ত। এরপরও ফেরিয়ালার ব্যবসায় কোনো বাধা আসে না লিখনের।
লিখন বলেন, আমার পরিবারের সব সদস্যই আল্লাহর রহমতে ভালো অবস্থানে আছেন। সবাই আমাকে সাপোর্ট দেন, বাধা দেন না। আমার দেখাদেখি সব বেকার যুবক সব ধরনের কাজ বেছে নিলেই আমি হ্যাপি। তাহলে সমাজ থেকে চুরি, পকেটমার, রাহাজানি ও ছিনতাই উঠে যাবে।
এই হ্যান্ডসাম ফেরিওয়ালা বলেন, আমরা যখন বিদেশ যাই, তখন সব ধরনের কাজ করতে পারি। কিন্তু নিজের দেশে থেকে কেন পারবো না? দেশে কাজের মর্যাদা ও ভেদাভেদ যেদিন উঠে যাবে, সেদিনই আমাদের দেশটা আরও সামনে এগিয়ে যাবে। কাজের নানা ভেদাভেদ থাকার কারণে আমাদের সমাজে শিক্ষিত ভাইয়েরা আজকে বেকার।
বেকারত্ব লিখনকে পীড়া দেয়। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে হারে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে যুবক শ্রেণি, সেই হারে কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। তাই আমাদের উচিত সব ধরনের কাজে মনোনিবেশ করা ও দেশটাকে সুন্দরমতো গড়া।

উদ্যক্তা খোজে

ব্যবসা করবেন জানেন না কার কাছে, কিভাবে, কি বিক্রি করবেন…
ব্যবসা করবেন। সফল উদ্যোক্তা হবেন। সংকল্পও আপনার দৃঢ়। জীবনে বড় হতেই হবে। কিন্তু ব্যবসা সম্পর্কে না জেনে না বুঝে কিভাবে সফল হবেন। কোন ব্যবসার প্রাণ হচ্ছে সেলস বা বিক্রয়। কিন্তু বিক্রয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সল্প। সেই সাথে বিক্রয় সম্পর্কিত কৌশলগত জ্ঞানের ব্যাপক অভাব।
ব্যবসার শুরুর আগেই চিন্তা করতে হয় পন্য বা সেবা কি হবে সে সম্পর্কে। সেই সাথে কার কাছে বিক্রি করবেন তাও আপনাকে নির্দিষ্ট করতে হবে। সে সম্পর্কিত বিষয় নিয়েই চলুন জানার চেষ্টা করি উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকমের সাথে।
আপনার ব্যবসায়ের পন্য বা সেবা কি হবে তা সর্বপ্রথমে নির্ধারন করতে হবে। ধরুন আপনি কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সেবার ব্যবসা করতে চান। আর এই পন্য বা সেবা আপনি কোথা থেকে কিভাবে সংগ্রহ করবেন সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে। চাল ডাল সরবরাহকারীর নিকট গিয়ে আপনি কম্পিউটার বা ইন্টারনেট এর ব্যান্ডউইথ ক্রয় করতে চাইলে নিশ্চয় পাবেন না। সুতরাং আপনাকে আপনার ব্যবসায়িক পন্য ক্রয়ের সঠিক স্থান সম্পর্কে জানতে হবে। সেই সাথে পণ্যের মান এবং মূল্য সম্পর্কেও থাকতে হবে স্পষ্ট ধারনা।
আবার বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও আপনাকে চিন্তা করতে হবে ক্রেতার অবস্থান ও সামর্থ্যকে সেই সাথে পন্য ব্যবহারকারীর বয়সও বিবেচনায় রাখতে হবে। আপনি যদি বাচ্চাদের ডায়াপার উৎপাদন ও বিক্রয় করতে চান তাহলে আপনাকে শিশুদের জন্য উপযোগী ব্যবহার্য্য ডায়াপার তৈরী করতে হবে। বড়দের জন্য ডায়াপার তৈরী করলে তা বাজারে নিশ্চয় কেউ কিনবে না।
ব্যবসায়িক পন্য নির্বাচনের সাথে আপনাকে নির্ধারন করতে হবে আপনার পণ্যের ক্রেতা কে হবেন। অর্থাৎ আপনার পণ্য কার নিকট বিক্রয় করবেন সেটা। আপনার পন্য যদি ইয়ং গ্রুপকে কেন্দ্র করে হয় তাহলে আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা রাখতে হবে আপনার পন্যটি তাদের কাছে বিক্রয় করা। আর তার জন্য আপনার বিক্রয় কৌশল সাজাতে হবে। আবার শিশু কিংবা বৃদ্ধ কেন্দ্রিক পন্য উৎপাদন করলে আপনার টার্গেট গ্রুপের জন্য আলাদা বিক্রয় কৌশলও নিতে হতে পারে।
আপনার পন্যের ক্রেতার অবস্থান ও শিক্ষার ধাপ বিবেচনা করে পন্য পৌছানোর জন্য পরিবহন ও বিজ্ঞাপন কৌশল নির্ধারন করতে হবে। আপনার পন্যের ক্রেতা শহর কিংবা গ্রাম কোথায় থাকে তা জানতে হবে। আপনার পন্যের যে ক্রেতা হবে তার শিক্ষার ধাপ কোন পর্যায়ে সেটাও জানতে হবে যেমন: সে অশিক্ষিত, সল্পশিক্ষিত, শিক্ষিত কিংবা উচ্চশিক্ষিত কোন পর্যায়ের তা বিবেচনা করে পন্যের বিজ্ঞাপন কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। না হলে বিজ্ঞাপনের আবেদন আপনার কাংখিত ব্যাক্তিকে পন্য ক্রয়ে প্রভাবিত নাও করতে পারে।
আপনার পন্যের ক্রেতার লিঙ্গ বিবেচনা করতে হবে কিছু কিছু ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে। পোশাকের মত কিছু পন্য আছে যার জন্য এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পন্যের মধ্যে বৈচিত্র নয় পণ্যের ডিজাইন অথবা পণ্যের মোড়কের রংয়ের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব চোখে পড়ার মত।
আপনার ব্যবসায়ের পন্যের গুনাগুন আর মানের সাথে প্রতিযোগী ব্যাবসায়ীদের পণ্যের গুনাগুন ও মানের মধ্যে বাড়তি কি পার্থক্য আছে সেটিও কিন্তু আপনার ক্রেতা যাচাই কেরতে ভুল করবে না। সুতরাং আপনাকে বাজারের প্রতিযোগীতা মোকাবেলা করার জন্য সেই সাথে বাজারে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থেকে ব্যবসা চালিয়ে রাখতে অবশ্যই আপনার পন্যমান ও পন্যমূল্যের সর্বোত্তমটি আপনাকে দিতে হবে।
আপনার পণ্যের বিক্রয় বাড়াতে এবং দীর্ঘ মেয়াদে আপনার পন্য বা সেবার প্রতি আনুগত্য আনতে আপনাকে প্রতিযোগী থেকে বাড়তি কৌশল নিয়ে এগিয়ে থাকতে হবে সবসময়। সেই সাথে প্রতিযোগীতা মোকাবেলার কৌশল সম্পর্কেও বিস্তরিত জানতে হবে আপনাকে। শুধু পন্য বিক্রয় করে মুনাফা পকেটে নিলেই কিন্তু কাজ শেষ নয়। আপনার কাছ থেকে পন্য ক্রয় করে কতটুকু সন্তুষ্ট তা জানার চেষ্টা করতে হবে সেই সাথে পণ্যের সুবিধা-অসুবিধা সমূহ জানার চেষ্টা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও গ্রহন করতে হবে।
এ বিষয় সমূহ মাথায় রেখে সে অনুযায়ী পন্য বিক্রয়ে নামলে আশা করা যায় ভাল করতে পারবেন। শুভকামনা রইল সকলের জন্য।
তাসনিম হক মিম/ উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকম।

মুরগী খামার কিভাবে করবেন?

মুরগীর খামার নিয়ে কিছু পরিকল্পণাঃ
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা ব্যতিত জুম্মদের মুক্তি অসম্ভব।এখন সময় হয়েছে উতপাদন মুখি প্রকল্পে হাত দেওয়ার।সমাজ পরিবর্তনের আশা নিয়ে আমরা আমাদের গ্রামে গড়ে তুলেছিলাম একটা ক্লাব।আশা গ্রামের একটা শিশুও যেন আর নষ্ট না হয়। কিনতু কয়েক বছরের মধ্যেই বুঝা গেল এত সহজ নয় একটা সমাজ পরিবর্তন।এই কয় বছরের মধ্যেই সদস্য সদস্যাদেরও (সবাই নয়) মনে হল দম কমে গেছে অনেক্ষানি।এমন নয় যে তাদের স্বদিচ্ছা হ্রাস পাচ্ছে। যতই বয়স বাড়ে আমরা ততই চাপে পড়তে থাকি। এরই পেক্ষাপটে কি করা যায় তা ভাবতে ভাবতেই আমরা কয়েকজন বনধু মিলে ঠিক করেছি একটা মুরগীর খামার করার।
আমাদের আগ্রহ লেয়ার মুরগীর খামারে।তবে লেয়ার মুরগীর খামারের প্রধান সমস্যা হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী খাবারের যোগান দেয়া।যা কম পুঁজির উদ্দোক্তাদের প্রদান সমস্যা। আর বাজারে রেডিমেড মুরগীর খাবারের দাম প্রচুর।নেট ঘাটাঘাটি করতে করতে এর একটা যুতসই সমাধানও অবশ্য পাওয়া গেছে। এই খাদ্য আমরা চাইলেই নিজেরাই ঘরেই তৈরি করতে পারি।আর এক্ষেত্রে আমাদের সুবিধা হচ্ছে আমাদের গ্রামে বানিজ্যিক ভাবে প্রচুর পরিমানে ভূট্টার চাষ হচ্ছে। যা মুরগীর খাদ্যের অন্যতম প্রধান উপাদান।নিচে ১০০ কেজি ওজনের বিভিন্ন উপাদান গুলোর একটা তালিকা দিলামঃ
গম/ভুট্টা ভাঙ্গা/চালের খুদ =৪০ কেজি,
গমের ভূষি = ৫ কেজি,
চালের কুড়া= ২৫ কেজি,
তিলের খৈল =১২ কেজি,
শুটকি মাছের গুড়া= ১০ কেজি,
ঝিনুকের গুড়া =৭.৫ কেজি,
লবন = .৫ কেজি,
মোট = ১০০ কেজি।
উপরোক্ত সব উপাদান প্রায় সবই হাতের নাগালেই পাওয়া যাবে।ফলে ব্যয়টা অনেক্ষানি হ্রাস করা সম্ভব হবে।
তবে এসব বাদেও আরো অনেক সমস্যা আছে তার মধ্যে প্রধান সমস্যা হচ্ছে বাচ্চার দাম। আজ একটা বাচ্চা বিক্রির দোকানে কল দিয়ে জানতে পারলাম লেয়ার মুরগীর বাচ্চার দাম ১০০ আর ব্রয়লার বাচ্চার দাম ৬৫ টাকা।এই দামে বাচ্চা কিনে তেমন কিছুই লাভ করা যাবে না।মূলত এই দামটা ফাইনাল না হলেও বাচ্চার দাম খুব একটা কমও নয়।
তাই লাভ করতে হলে আজ না হলে কাল নিজস্ব ভাবে বাচ্চা উতপাদনে যেতেই হবে।তবে বাচ্চা উতপাদন যে খুব একটা কঠিন তাও না।বর্তমানে দেশীয় ভাবেই মাসে ৫০০০ বাচ্চা উতপাদনে সক্ষম একটা ইনকিউবেটর লাখ খানেক টাকা খরচেই পাওয়া যায়।
কার্টেসী-  Newton Chakma

পাহাড়ে নতুন জাতের কাঠালের উদ্ভাবন

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে অমৌসুমি কাঁঠালের একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন।বারি কাঁঠাল-২ নামে এ জাতটি আনসিজন অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে শুরু করে এপ্রিল পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে।নতুন উদ্ভাবিত বারি কাঁঠাল-২ জাতটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বীজ প্রত্যায়ন বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়েছে।
রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মু. জুলফিকার আলি ফিরোজ জানান, তার নেতৃত্বে এ গবেষণা কেন্দ্রের চারজন কৃষি বিজ্ঞানি দীর্ঘ তিন বছর গবেষণা করে বারি কাঁঠাল-২ জাতটি উদ্ভাবনে সফলতা অর্জন করেন। ড. ফিরোজ বলেন, ‘ পাহাড়ে সাধারণত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত কাঁঠাল পাওয়া যায়। এ সময় কাঁঠালের বাজার মূল্য কম থাকে। সেক্ষেত্রে অমৌসুমে অর্থাৎ জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে বারি কাঁঠাল-২ চাষ করে বেশ ভাল মূল্য পাওয়া যাবে।’
জানা গেছে, নতুন উদ্ভাবিত জাতটির বৈশিষ্ট্য হলো ওজন গড়ে ৭ কেজি, খুবই সুস্বাদু, মিষ্টতার পরিমাণ ২১%, ভক্ষণযোগ্য অংশ ৬০% এবং ভিতরের রং উজ্জ্বল হলুদ। পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় মৌসুমি কৃষকেরা দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর কাঁঠাল পরিবহন করেও যথাযথ মূল্য পায় না। কিন্তু অমৌসুমে মাঝারি আকারের একটি কাঁঠালের গড় মূল্য ২০০-২৫০ টাকা হয়ে থাকে। কাজেই অমৌসুমি বারি কাঁঠাল-২ কৃষকদের কাঁঠালের যথাযথ মূল্য পেতে সহায়ক হবে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
সাধারণত কাঁঠালের বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়। যদিও এতে গাছের মাতৃ বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে না। তথাপি ফলনে বিশেষ তারতম্য দেখা যায় না। পাকা কাঁঠাল থেকে পুষ্টি ও বড় বীজ বের করে ছাই মাখিয়ে ২/৩ দিন ছায়ায় শুকিয়ে বীজতলায় বপন করলে ২০-২৫ দিনের মধ্যে চারা গজাবে। ১/২ মাসের চারা সর্তকতার সাথে তুলে পলিব্যাগে রাখতে হবে। ১ বছরের চারা রোপণ করতে হবে।
জাতের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে হলে গ্রাফটিং বা টিস্যু কালচারের চারা লাগাতে হবে। চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় জুন-আগস্ট মাস। গাছ ও সারির দূরত্ব হবে ১০X১০ মিটার। গাছ রোপণের ১৫ দিন পূর্বে ১ X ১ X ১ মিটার গর্ত তৈরি করে ২০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ২০০ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগ করতে ২০০ গ্রাম।
চারা লাগানোর ১ মাস পর গাছ প্রতি ২০০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রতি বছর ১০% সার বাড়িয়ে দিতে হবে। একর প্রতি গাছের সংখ্যা হবে ৪০ টি এবং ফলন হবে ২৪ টন।

কার্টেসি---Xenon Chang

কিভাবে সফল হবেন?

সফল হবার জন্য অন্যের মত নয়, নিজের মত হোন…
ইস…! “যদি অমন সুন্দর হতাম আমি” “আরও একটু যদি লম্বা হতাম” , “অমন সুন্দর দেহ যদি আমার থাকতো” “আমারও যদি অমন একটা কিছু থাকতো” হায়…! আপনার এমন সব আকাঙ্ক্ষার নামই মনস্তাত্ত্বিক হতাশা।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের জীবনটাই কেটে যায় এমন সব হতাশামুলক আচরণ আর চিন্তাধারায়।
মানুষের শ্রেষ্ঠ হবার আকাঙ্ক্ষাটা চিরন্তন। বরাবরই মানুষ চেয়েছে অন্যের থেকে নিজেকে শ্রেষ্ঠতম স্থানে নিয়ে যেতে। অথচ মানুষ জানেই না, অন্যকে পিছনে ফেলে নিজেকে এগিয়ে যাবার বাসনা বস্তুত নিজেকেই ছোট করে।
সম্পূর্ণ নিশ্চিত থাকতে পারেন, আরেকজনকে হারিয়ে আপনি কোনওদিন সফল হতে পারবেন না। বরং আপনি আপনার মতো থেকে আপনার জায়গাতেই কেমন করে উন্নতি করবেন, সে চেষ্টাই যদি করেন দেখবেন আপনার সাফল্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। সফল ব্যক্তিদের কাহিনী পড়েন, দেখবেন তারা কেউই অন্যকে হারাতে চাননি, বরং তারা নিজেদের জায়গায় থেকে জিততে চেয়েছেন।
হতে পারে আপনি সুদর্শন নয়, কিন্তু তাতে কি? আপনি তো আপনার বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যামণ্ডিত। আপনার ভেতরেই এমন সব গুণ রয়েছে যা অন্য যে কোনো মানুষের ভেতরে নেই।
লম্বায় একটু খাটো হয়েছেন বলে যে হতাশার সীমা থাকবে না এমনটি নয়। আপনার শারীরিক দৈর্ঘ্য আপনাকে সফল করবে না, বরং আপনার মস্তিষ্কের প্রখরতার দৈর্ঘ্য আপনাকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলবে।
এখানে আবার মনে রাখা প্রয়োজন, মস্তিষ্ক আর মেধা দুটো আলাদা জিনিস। মস্তিষ্ক আপনাকে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করার পথ দেখাবে আর মেধা আপনার কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। সফল ব্যক্তিদের অনেকেই খুব কম মেধাসম্পন্ন ছিলেন, বরং তারা ছিলেন উর্বর মস্তিষ্কের পরিশ্রমী ব্যক্তি, যার কারণে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করে তারা আজ সফল।
আপনার যা কিছু নেই তা নিয়ে আপনি হতাশায় ভুগবেন না বরং যা আছে তাই নিয়েই উন্নতি করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন-একই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি আমরা। তিনি নিজেই আমাদেরকে এক এক রকমের অনুদান দিয়ে আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা আপনার পাশের মানুষটিকে সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী করেছেন, তিনি পারলে আপনাকেও সমপরিমাণ স্বাস্থ্য বা ঐশ্বর্যের মালিক করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, কারণ সৃষ্টিকর্তা ভালো করেই জানেন কার কিসে মঙ্গল। কেননা মঙ্গলটা তো তারই সৃষ্টি।
কারও হয়তো অঢেল সম্পত্তি আছে, মনে হতে পারে অমন সম্পদ আপনার থাকলে আপনিও কিছু করে দেখাতে পারতেন। কিন্তু সত্যিই যদি ব্যাপারটা তাই হতো, তাহলে যিনি সম্পত্তির মালিক তিনি নিজেও অনেক আগেই সফল ব্যাক্তিত্ব হতে পারতেন। একটু খেয়াল করে দেখুন, অঢেল সম্পদ থাকলেও সেই মানুষটি মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারেননি। ঠিক এমনি ভাবেই একই কথা সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সুতরাং নিজের মনের এমন দুশ্চিন্তা দূর করে ফেলুন। অহেতুক হতাশা আপনাকে শুধু অন্যের ব্যাপারে ভাবিয়ে নিজের ব্যাপারে উদাসীন করে দিবে। এর থেকে বরং নিজের ব্যাপারে ভেবে, নিজের সম্পদ আর সম্বলটুকু নিয়ে সে অনুপাতে কাজ করে যান।
মনে রাখবেন, অন্যের যা কিছু আছে তা নিয়ে ভেবে শুধু শুধু নিজে কষ্ট পাবেন কিন্তু তাতে কোন দিনও ভাগ পাবেন না। তাই অন্যের ব্যাপারে পার্থক্য করে নিজে নিজে কষ্ট না পেয়ে আপনি আপনার জায়গায় থেকে সফল হবার চেষ্টা করুন। দেখবেন, যাদের সুযোগ ছিল ভালো কিছু করার, যাদেরকে দেখে আপনি আফসোস করেছেন, একদিন তারাই আপনার সফলতার ভারে নুয়ে পড়বে।
লেখক:
মাহবুবা খাতুন।
পপুলার মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।

বিচক্ষন ও সফল উদ্যোগতাদের ১০টি ভালো অভ্যাস।

১. সূর্যোদয়ের আগে দিনের কাজ শুরু করুন
বিচক্ষণ উদ্যোক্তা ও সফল ব্যক্তিদের অন্যতম অভ্যাস হলো ভোরে ঘুম থেকে ওঠা। এটা শুধু আপনার স্বাস্থ্যেরই উপকার করবে না বরং একটা ভালো সকাল একটি উৎপাদনশীল দিনের জন্ম দেবে। নিচে বর্তমান সময়ের কিছু সফল ব্যক্তিদের ঘুম থেকে ওঠার সময় দেওয়া হলো;
প্রেসিডেন্ট ওবামা—সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট।
ডেভিড ক্যামেরন—সকাল ৬টা।
স্টারবাকস সিইও হাওয়ার্ড শুলজ—ভোর ৪টা ১৫ মিনিট।
অ্যাপল সিইও টিম কুক—ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট।
জেনারেল মোটরস সিইও মেরি বাররা—সকাল ৬টা।
এওএল সিইও টিম আর্মস্ট্রং—ভোর ৫টা।
জেরক্স সিইও উরসুলা বার্নস—ভোর ৫টা।
জিই সিইও জেফ ইমেল্ট—সকাল ৫টা ৪৫ মিনিট।
পেপসিকো সিইও ইন্দ্রা নুই—ভোর ৪টা।
ক্রাইসলার সিইও এস মারছিওনি—ভোর ৩টা ৩০ মিনিট।
রিচার্ড ব্র্যানসন—সকাল ৫টা ৪৫ মিনিট।
ভার্জিন আমেরিকা সিইও ডেভিড কুশ—ভোর ৪টা ১৫ মিনিট।
ডিজনি সিইও বব—ভোর ৪টা ৩০ মিনিট।
মিশেল ওবামা—ভোর ৪টা ৩০ মিনিট।
আপনি যদি উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে চান তবে তবে দিন শুরুর সময়টা এখনই ঠিক করে নিন। এটা আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাদারি জীবনের জন্য জরুরি।
পেপসিকো সিইও ইন্দ্রা নুই। সংগৃহীত২. প্রতিদিন নিয়ম করে বই পড়া
বিচক্ষণ উদ্যোক্তা ও সফল ব্যক্তিদের আরেকটি অন্যতম অভ্যাস হলো নিয়মিত বই পড়া। তবে বইগুলো গল্প-কবিতার বই না হয়ে প্রাসঙ্গিক বই হওয়া চাই। আপনি যে কাজে বা ব্যবসায় নিয়োজিত তাতে যদি আপনার গভীর জ্ঞান থাকে তা আপনাকে ওপরের উঠতে সাহায্য করবে। বর্তমান সময়ের বিল গেটস, মার্ক জাকারবার্গ থেকে শুরু করে প্রায় সব সফল ব্যক্তিদের এটি নিয়মিত অভ্যাস। উদ্যোক্তাদের বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অন্য একটি পোস্ট লিখব। তবে এখানে একজন বাঙালি সফল উদ্যোক্তার কথা বলে শেষ করি। তিনি হলেন রুসেল সরদার। আইটি ট্রেনিং কোম্পানি NetCom Learning-এর কর্ণধার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল আইটি ট্রেনিং কোম্পানি, যাদের সেলস ১০ মিলিয়ন ডলারেরও ওপরে। তিনি বলেন, ব্যবসা নিয়ে যত ব্যস্ত থাকেন না কেন, প্রতিদিন নিয়ম করে বই পড়েন। সপ্তাহের কাজের দিনগুলো ১-২ ঘণ্টা এবং বন্ধের দিনগুলো ৮-১০ ঘণ্টা তিনি বই পড়েন।
তার সুপারিশকৃত তিনটি বই, The Five Dysfunctions of a Team-এই বইটি তার দলকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করার পরিচালনা সাহায্য করেছে। The Four Kinds of Sales People-এই বইটি তাকে তার বিক্রয় প্রতিনিধি থেকে খারাপ লোকদের বাদ দিতে সাহায্য করেছে। Good to Great-এই বইটি তার কোম্পানি পরিচালনার চিন্তাগুলোকে যাচাই করতে সাহায্য করেছে।
৩. নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন
নিজের লক্ষ্য ঠিক করাকে প্রতিদিনের কর্তব্য মনে করুন। প্রতিদিনে, মাসে, বছরে, এমনকি এক দশকে আপনি কী অর্জন করতে চান তা লিখে ফেলুন। এমনটি আপনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে ও বড় কিছু চিন্তা করতে সাহায্য করবে যার মাধ্যমে আপনি ছোট সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবেন। আপনি যদি লক্ষ্য অর্জন করতে চান, তবে আপনার লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিছু আকাঙ্ক্ষা লিপিবদ্ধ করুন। যেমন পরবর্তী ১০ বছরে আপনার একটি ভালো বাড়ি, একটি ভালো গাড়ি, ব্যক্তিগত সহকারী থাকবে। যদি এমন ধারণাগুলো আপনার মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন তবে এটা আপনাকে আপনার জীবনের গতি সম্পর্কে উজ্জীবিত করবে। যদি পরবর্তী ১০ বছরের জীবনকে আপনি এখন দেখতে পারেন, তবে আপনি সেটা করতে পারবেন।
৪. পরিকল্পনা করুন
আপনি সীমাহীন লক্ষ্য ঠিক করতে পারেন কিন্তু আপনাকে সে লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে। আপনার ১০ বছরের লক্ষ্যগুলোকে আপনি বছর, মাস ও দিনে ভাগ করে নিন। যখন লক্ষ্যগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ হবে তখন সেগুলো অর্জন করার জন্য কর্মপন্থা ঠিক করুন। মনে রাখবেন আপনার কর্মপন্থা যেন আপনার কাজের ফলাফলের ওপর দায়িত্ববান করে।
ধরুন কেউ পেশাধারী বক্তা হতে চান। যদিও সে জানে না তার জন্য কীভাবে পরিকল্পনা করবে। সুতরাং আমাকে বলতে হবে, তার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করার জন্য। যদি সে বছরে ১২০টি বক্তৃতা দেয় তবে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাবে। যদি বছরে ১২০টি হয়, তবে মাসিক লক্ষ্য ১০টি, তার মানে প্রতি তিন দিনে তাকে একটি বক্তৃতা করতে হবে। পরিকল্পনা করার পর মনে হবে এটা সহজে অর্জনযোগ্য। সুতরাং আপনার কাজের পরিকল্পনা করুন, পরিকল্পনার ওপর কাজ করুন।
এওএল সিইও টিম আর্মস্ট্রং। সংগৃহীত৫. নেটওয়ার্ক স্থাপন করা
এই সময় নেটওয়ার্কের জন্য অনেক পথ রয়েছে, বিশেষভাবে তথ্য প্রযুক্তি এ কাজটিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। একজন সফল নেটওয়ার্ককারী হতে হলে আপনাকে উৎপাদক হতে হবে, ভোক্তা নয়। তার মানে হলো, আপনাকে সক্রিয় হতে হবে, নিষ্ক্রিয় নয়। কারও কল বা ইমেইল জন্য অপেক্ষা না করে আপনি তাদের কল করুন, ইমেইল না হয় টেক্সট করুন। নেটওয়াকিংয়ের জন্য ১০ নিয়ম ব্যবহার করুন। প্রতিদিন দশজনকে আপনার ব্যবসা, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে ১০ জনকে জানান, ১০ জনের সঙ্গে দেখা করুন, ১০ জনের কাছে বিক্রি করুন। এ জন্য তাদের কল করুন, ইমেইল করুন অথবা মেসেজ দেবেন।
৬. প্রতিদিন নোট লিখুন
প্রত্যেকেরই চিন্তা করার জন্য সময়ের প্রয়োজন। ফলপ্রসূ চিন্তার জন্য আপনাকে নোট রাখতে হবে। এ ছাড়া যখনই কোনো ভালো চিন্তা বা কৌশল মনে আসে তখনই তা নোট করুন। এটা অনেকটা ডায়েরি লেখার মতো। এটা আপনাকে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর তথা দৈনন্দিন বিষয়গুলোর ওপর সজাগ রাখবে এবং সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর ওপর প্রতিফলন করতে সাহায্য করবে। একটা সময় আপনি যখন আপনার ডায়েরিতে ফিরে তাকাবেন তখন এটা আপনাকে আপনার অতীত জীবনযাত্রা সম্পর্কে অভিভূত করবে। সবচেয়ে বড় কথা, আপনি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু নোট রেখে গেলেন।
৭. দৈনিক ব্যায়াম করুন
সফল হওয়ার জন্য আপনার শরীরকে অবশ্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করতে হবে। আপনার মন আপনার শরীরকে প্রতিদিন কিছু অসাধারণ করার জন্য বলবে এবং আপনাকে অবশ্য তার জন্য তৈরি হতে হবে। আর আপনার শরীরকে তৈরির উত্তম উপায় হলো ব্যায়াম। যখন আপনার শরীর সুযোগের জন্য তৈরি হবে তবে আপনি সফলতার সাগর পাড়ি দিতে সমর্থ হবেন। প্রতিদিন নিয়ম করে দৌড়ান, নিয়ম করে (৩-৫ দিন সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে) ব্যায়ামাগারে যান। এমনটি আপনাকে শুধু কাজের জন্য অভূতপূর্ব সহনশীলই করে তুলবে না বরং দিন শেষ হওয়ার পূর্বেই সকল কাজ সমাপ্ত করতে সাহায্য করবে।
৮. বিশ্রাম করুন
শুধু শক্তিশালী মানুষেরা জানে কীভাবে বিশ্রাম করতে হয়। এমনকি তারা যখন ক্ষমতার (উন্নতির) সর্বোচ্চ পর্যায়েও থাকেন। কিন্তু কিছু মানুষ সময়ের সঙ্গে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যা তাদের ধ্বংস করে দেয়। যখন আপনি অবসন্ন, চিন্তাগ্রস্ত হবেন তখন আপনি মনোযোগ হারাবেন। এমনকি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলবেন। আপনাকে অবশ্যই বিশ্রাম করা শিখতে হবে অন্যথায় আপনার মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট হবে। আমি আমার একজন নিকট আত্মীয়কে দেখেছি দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করতে এবং তিনি ব্যবসায় অনেক টাকার মালিক হলেন। দশ বছরে কখনো দেখিনি নিজের জন্য কখনো ছুটি নিয়েছেন। কিন্তু একটা সময় তার ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হলো এবং তিনি খুব চিন্তাগ্রস্ত হলেন যা তাকে একটা সময়ে মানসিক রোগীতে পরিণত করে।
মাঝে মাঝে নিজকে কাজ থেকে অবমুক্ত করুন। কিছু সময় পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যান। আপনজনের সঙ্গে ভালোবাসার কথা বলুন, রান্না করুন, মাছ ধরুন। এমনটি আপনাকে অনেক জটিল অবস্থার মধ্যেও চিন্তা মুক্ত রাখবে।
৯. আগামীকালের কাজের পরিকল্পনা আজই করে ফেলুন
প্রতিদিন সকালে পুরো দিনের কাজের পরিকল্পনা করে নিতে পারেন। আপনি যদি আরও অগ্রগামী হন তবে আগের রাতেই পরের দিনের পরিকল্পনা করে নেবেন। এখানে উদাহরণস্বরূপ একটি দিনের পরিকল্পনা কীভাবে করবেন তার কিছু উপদেশ দেওয়া হলো।
ঘুম থেকে ওঠা—ভোর ৫টা।
পরিচ্ছন্ন হওয়া, পানি পান, সকালের প্রার্থনা—৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে।
আজকের দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৩-৫টি কাজের পরিকল্পনা ও সময় ঠিক করুন।
বাচ্চাদের স্কুল ও পরিবারের জন্য সময় ঠিক করুন।
নিজের নাশতা, খাবার সময়, বিশ্রাম ও ব্যায়ামের সময় ঠিক করুন।
দিনকে তিন ভাগে ভাগ করে নিন। বিশেষভাবে সকালে ঘুম থেকে উঠে কী করবেন, সারা দিনের পরিকল্পনা এবং ঘুমানো যাওয়ার আগের কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমানো যাওয়ার আগে কিছু সময় বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন।
প্রতিটি পরিকল্পনার আগে তিনটি বিষয় মাথায় রাখবেন। আপনার কাজ, আপনার স্বাস্থ্য ও আপনার জীবন।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বের সূচি আপনার পুরো দিনের কাজের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যায়ামাগারে যাওয়ার জন্য দিন ঠিক করতে পারেন এবং প্রতিদিন নিয়ম করে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা দৌড়াতে পারেন।
মাঝে মাঝে নিজের সূচি পরিবর্তন করুন। বৈচিত্র্যতা আপনাকে স্বতঃস্ফূর্ত রাখবে।
১০. পরামর্শ নিন
কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে হবে। উপদেশ গ্রহণ ছাড়া সফল হওয়া কঠিন। পৃথিবীর বড় বড় সফল প্রতিষ্ঠানগুলো পরামর্শ গ্রহণ করেই সফল হয়েছে। পরামর্শ ছাড়া সফল, এটা সাধারণত হয় না। কেউই সব বিষয়ে সবজান্তা নয়। প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন ভালো পরামর্শক খুঁজুন। আপনার জ্ঞানকে বাড়ান। আপনি জানবেন কীভাবে আপনার ব্যবসা বড় করতে হয়। আবার নিজের জ্ঞানকেও অন্যের সঙ্গে শেয়ার করুন। যখন আপনার জ্ঞানকে প্রকাশ করবেন, এটা বস্তুত কাউকে শিক্ষিত করবে, উদ্দীপ্ত করবে যে, সে আগে বাড়তে পারে। আপনি আপনার জ্ঞানকে প্রসারিত করছেন, যা আপনার প্রতিষ্ঠানকে বড় ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে কারণ কঠিন কাজগুলো আপনি আর একা করবেন না।
সূত্রঃ প্রথম আলো