Friday, October 16, 2020

সিকিম ভারতের একটি সৌন্দর্যে মহারানী- ১


আমাদের সবার একটা স্বপ্ন ছিল বরফ দেখতে যাবো। এখন শুধু বরফ দেখতে যাবো বললে তো হবে না। আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়। কোথায় যাবো, আর কিভাবে যাবো? আগে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবার সিকিম যাবো। এভাবে আমরা পরিকল্পনা করার পর । সেই অনুযায়ী আমরা গতবছর ডিসেম্বের ১৫/১২/২০১৯ ইং তারিখে সিকিম ভ্রমন করার বাসে টিকেট করি। বুড়িমারি স্টল বন্দর দিয়ে। কারন, সিকিমে কেউ যদি যেতে চান তাহলে অবশ্যই বুড়িমারি স্টল বন্দর দিয়ে ভিসা করবেন এবং এটা দিয়ে সহজে ভারতে যাওয়া যায়। লোকজন খুবি কম। সহজে ইমিগ্রেশন সম্পর্ন করা যায়।

ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত শ্যামলী বাস সার্ভিস এবং শ্যামলী এন্ড আর দুটি এসি বাস পাওয়া যায়। আপনারা যেকোন কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে আগে ভাগে করে রাখবেন। 

আমরা রাত্রে শিলিগুড়ি বাসেই উঠি।  তবে এর আগে আপনাকে কোন ট্যুর এন্ড ট্রাবেল এজেন্ডকে ঠিক করে রাখতে হবে। তা না হলে আপনাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। আমরা আগে ভাগে সব কিছু ঠিকঠাক করেছিলাম। কারন আমাদের  এক ফ্রেন্ড তখন শিলিগুড়িতে পড়ালেখা করছিল তার মাধ্যমে। 

আমাদের ট্যুরটা ছিল দার্জিলিংসহ। প্রথম দিন দার্জিলিং ঘুরে দেখলাম। তারপরে দিন ভোর ৪ টা দিকে সুর্য উদয় দেখার জন্য টাইগার হিল গেলাম। আপনাদের জ্ঞাতার্থে টাইগার হিল যাওয়ার সময় অবশ্যই গরম কাপড় নিয়ে যাবেন না হলে ঠান্ডায় মারা যাবেন। খুবি খুবি ঠান্ডা।

টাইগার হিল সূর্য উদয় দেখার পর হোটেলে নাস্তা করলাম। নাস্তা করার পর হোটেল ছেড়ে দিলাম। তারপর দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানা এবং HMI(Himalayan Mountaineering Institute) ঘুরলাম। দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় হরেক রকমের জীবজন্তু আছে। আপনারা কেউ দার্জিলিং ঘুরতে যান তাহলে অবশ্যই এই চিড়িয়াখানা ঘুরতে যাবেন। 

এরপর দেখা শেষ হওয়ার পর আমরা রওনা হলাম। সিকিমের গ্যাংটকে উদ্দেশ্যে। গাড়ি চলতেছে আর চলতেছে। পাহাড়ি আকা-বাকা রাস্তা। আর গাড়ির ভিতরে মজার মজার সব গান। সত্যিই এক রোমাঞ্চিত ভ্রমন ছিল। মাঝপথে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। খাবার খাওয়ার পর পড়ন্ত বিকেলে স্বপ্নের সিকিমে সীমানায় পৌছলাম। ওখান থেকে আমার(Inner line Permit) ইনার লাইন পারমিট নিলাম। যেই পারমিট ছাড়া আপনি সিকিমে ডুকতে পারবেন না আর বের হতে পারবেন না। অবশ্যই এই পারমিট টা নিতে হবে। 

ইনার লাইন পারমিট নেওয়ার পর রাত ৮ টা দিকে আমরা পৌছালাম সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে । আমাদের আগেভাগে বুকিং করা হোটেলে। রাত্রে খাওয়ার পর আমরা সবাই তাড়া তাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। কারন, সকাল হলে আবার বের হয়ে যেতে হবে। 

সকাল হলো। নাস্তা করার পর আমরা দক্ষিন সিকিম ঘুরতে বের হলাম। দক্ষিন সিকিমও ট্যুরিষ্টদের জন্য একটি সুন্দর জায়গা। এখানে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১. জারধাম ২. বুদ্ধপার্ক সহ উল্লেখযোগ্য। 



ঘুরতে ঘুরতে রাত হয়ে গেলো। আমার গ্যাংটকে উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। কিন্তু এই যাত্রা মিনিমাম ৪ ঘন্টার উপরে। রাত ১০ টা বাজে আবার হেটেলে ইন করলাম। রাত্রের খাবার খেয়ে তাড়া তাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। কারন পরের দিন আমাদের লালিত স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে । নিচে একটি ভিডিও লিংক দিলাম। আপনারা ভিডিওটি ক্লিক করলে বুঝতে পারবেন। কতটা রোমাঞ্চকর ছিল এই ভ্রমন।

চলমনা থাকবে.........


No comments:

Post a Comment